আমার জন্মভূমি
প্রতিদিন সকালে মন্দিরের ঘণ্টা বাজে
আমি চুপি চুপি পূজা করি ঘরে
কেউ জানে না আমার বেদনার কথা
যেখানে জন্মেছি, সেখানে পরবাসী
মায়ের আঁচলের মত এই মাটি
তবুও কেন আমি এখানে ভিখারি?
বাড়ির পাশের পুকুরে পদ্মফুল ফোটে
মসজিদের আজান ভেসে আসে হাওয়ায়
আমার ঠাকুরদার বাগানে এখন
অন্য কেউ বসে গল্প করে চায়
তবুও প্রতিদিন সন্ধ্যায় দীপ জ্বালি
যেন এক নীরব প্রার্থনার মতো।
গ্রামের পথে হেঁটে যাই যখন
চোখে পড়ে ভাঙা মন্দিরের চূড়া
কত যুগ ধরে দাঁড়িয়ে আছে
সাক্ষী হয়ে কত ইতিহাস ভুলে যাওয়া
আমার পূর্বপুরুষের রক্ত মাখা
এই মাটিতে আজও আমি অচেনা।
বাজারে যখন যাই কেনাকাটা করতে
দোকানি জিজ্ঞাসা করে, "কোথায় থাকেন?"
আমি বলি, "এইখানেই" - কিন্তু ভিতরে জানি
এই "এইখানে" কত দূরের হয়ে গেছে
তবুও ভালোবাসি এই নদী, এই মাঠ
যেখানে আমার শৈশব ছুটে বেড়িয়েছে।
সন্ধ্যায় দেখি আকাশে পাখি ফেরে
ওরা জানে না সীমানা, জানে না ধর্ম
আমিও চেয়েছিলাম তেমন উড়ে যেতে
কিন্তু শিকড় আমায় ধরে রেখেছে এখানে
এই মাটিতে আমার জন্ম, আমার মৃত্যু
এই আমার অভিশপ্ত স্বর্গ।